শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬, ১১:২৪ অপরাহ্ন
রাতের আঁধারে সেনা ও পুলিশের অভিযান, এরপর যা ঘটলো তা অবিশ্বাস্য!
জাহিদ হাসান, জেলা প্রতিনিধি, জামালপুর
জামালপুর সদর উপজেলার নরুন্দি ইউনিয়নে মাদক ও জুয়ার বিরুদ্ধে এক রোমাঞ্চকর অভিযান পরিচালিত হয়েছে, যেখানে একদিকে পুলিশের দৃঢ় পদক্ষেপ, অন্যদিকে গ্রেপ্তার প্রতিরোধে স্থানীয়দের তাণ্ডব—সব মিলিয়ে সৃষ্টি হয় উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির। এই ঘটনাটি শুধু আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সাহসিকতাই নয়, বরং সমাজে মাদকের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধে জনগণের অংশগ্রহণ এবং প্রতিরোধ কতটা তীব্র হতে পারে, তারও এক জীবন্ত চিত্র।
৫ এপ্রিল, শনিবার রাতে ৬ নম্বর নরুন্দি ইউনিয়নের নয়াপাড়া গ্রামে পরিচালিত হয় এ চাঞ্চল্যকর অভিযান। অভিযানে নেতৃত্ব দেন নরুন্দি তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ মোঃ ওবায়দুল হক এবং তার সঙ্গে ছিলেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সদস্যরা। তাঁদের লক্ষ্য ছিল স্থানীয় ইউপি সদস্য শাকিল, যিনি মাদক ও জুয়া সংক্রান্ত অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগে পুলিশের নজরদারিতে ছিলেন।
রাত আনুমানিক আটটার দিকে শাকিল মেম্বারের বাড়িতে হানা দেয় পুলিশ। অত্যন্ত দক্ষতায় তাকে গ্রেপ্তারও করে ফেলে বাহিনী। কিন্তু এখানেই নাটকীয় মোড় নেয় ঘটনাটি। আসামিকে নিয়ে ফেরার পথে শাকিল মেম্বারের পরিবারের সদস্যসহ স্থানীয় কিছু উগ্র ব্যক্তি হঠাৎ লাঠিসোটা ও দেশীয় অস্ত্রসহ পুলিশের উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। এই অতর্কিত হামলায় বেশ কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হন। পরিস্থিতি এমন ভয়াবহ রূপ নেয় যে, জনতার মারমুখী ভিড়ে পুলিশ শাকিল মেম্বারকে হাতছাড়া করে ফেলে। তাকে ছিনিয়ে নেয় দুর্বৃত্তরা।
অভিযান চালিয়ে তারা দুইজনকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হন। ইনচার্জ মোঃ ওবায়দুল হক জানিয়েছেন, এই ঘটনাকে বিচ্ছিন্নভাবে দেখার সুযোগ নেই। যারা পুলিশের ওপর হামলা চালিয়েছে এবং আসামিকে ছিনিয়ে নিয়েছে, তাদের কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “আমরা মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করছি। কেউই আইনের ঊর্ধ্বে নয়। এই অভিযান চলমান থাকবে এবং পলাতক আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তার করা হবে।”
এই অভিযান আবারও প্রমাণ করে, মাদকের বিরুদ্ধে সরকারের কঠোর অবস্থান শুধু কথার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়—প্রয়োজনে সেনাবাহিনী ও পুলিশ একসাথে মাঠে নামতে দ্বিধা করছে না। তবে এরসাথে সমাজের সচেতন অংশেরও দায়িত্ব রয়েছে—এ ধরনের অপরাধীদের প্রশ্রয় না দেওয়া, বরং তাদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানো। পুলিশের ওপর হামলার ঘটনা প্রমাণ করে, অপরাধীরা কেবল মাদক বা জুয়ায় সীমাবদ্ধ নয়, তারা সরাসরি আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকেও চ্যালেঞ্জ করতে পারে।